রাতের অন্ধকার ফুঁড়ে লেজার রশ্মীর দ্যুতি ছড়িয়ে পঞ্চম বারের মতো নাটোর উত্তরা গণভবনে বসেছে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক মিলন মেলা। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় উভয় দেশের এই সাংস্কৃতিক উৎসবে। এরপর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শুরুতেই সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে হাজির হয় ভারতের শিল্পীরা। এরপর স্বাগতিকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মন্ত্রী রাম প্রসাদ পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল, নাটোর-নওগাঁ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রত্না আহমেদ, সহকারী হাই-কমিশনার সঞ্জীব ভাটি, পৌর মেয়র উমা চৌধুরী।
সভাপতির বক্তব্যে মাহাত্মাগান্ধীর অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক হয়ে নান্দনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতি আহ্বান জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
তিনি বলেন, আসুন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রগতিশীল সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রত্যেককে একেকজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক হয়ে মাহাত্মাগান্ধীর অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে শান্তিপূর্ণ, উন্নত-আধুনিক, নান্দনিক এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং নাটোরবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলার পুরোটাই সশরীরে দেখভাল করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাংস্কৃতিক উৎসবের এই মিলন মেলায় দৃষ্টি কাড়ে লেজার শো যেখানে দুই বন্ধু প্রতিম দেশের পতাকা তুলে ধরা হয় গৌরবের মহিমায়।
এর আগে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনুষ্ঠান স্থলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত ব্যবস্থা, লাইভ সম্প্রচার সব কিছুই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। অনাহুত যে কোনো যান্ত্রিক সমস্যার ব্যাকআপও নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ৪২ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল নাটোর উত্তরা গণভবনে পৌছালে স্বাগত জানান। মূল অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন জুনাইদ আহমেদ পালক।

বাংলাদেশ ও ভারতে মৈত্রী ও বন্ধুত্বের সুবর্ণ জয়ন্তীতে আয়োজিত এই উৎসব নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রদিমন্ত্রী বলেন, এই ৫০ বছরে ভারতের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। এই ঋণ কোনো দিন হয়তো শেষ করার নয়। আমরা ভারতের সঙ্গে আমাদের যে রাজনৈতিক সম্পর্ক এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ সম্পর্ক কিন্তু ত্বরান্বিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সহায়তায় আমাদের নাটোরে হাইটেক পার্ক হচ্ছে, বাংলাদেশ ভারত ডিজিটাল ইমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার হচ্ছে। সাথে সাথে আমরা নাটোর সহ ৬৪ জেলায় এড্যুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার করছি। সব কিছু মিলিয়ে আমরা নাটোরবাসী নাটোরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও রাণী ভবানীর স্মৃতি বিজড়িত উত্তরা গণভবনে যে সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছি, আমাদের প্রত্যাশা ভারতের বন্ধুরা এগুলো উপভোগ করে তারা বাংলাদেশকে, নাটোরকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে।